মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
ক্রেডিট কার্ড নেবেন? না জানলে ক্ষতির মুখে পড়বেন!
অনলাইন ডেস্ক
দেশজুড়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। বিল পরিশোধ, অনলাইন শপিং, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা হঠাৎ জরুরি খরচ—সব ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ড হয়ে উঠেছে আর্থিক সহায়তার নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। তবে ইচ্ছা হলেই এটি পাওয়া যায় না; পেতে হয় নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করে।
চলুন জেনে নিই কারা পেতে পারেন এই কার্ড, কীভাবে আবেদন করবেন এবং কোন কাগজপত্র লাগবে।
বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংকই অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড আবেদন গ্রহণ করছে। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রতিনিধি যোগাযোগ করে ফরম পূরণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
সব প্রক্রিয়া শেষ হলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্ড ও পিন নম্বর গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয় কুরিয়ারের মাধ্যমে। অ্যাকাউন্ট খোলার বাধ্যবাধকতা নেই, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:
ব্যাংক এসব তথ্য যাচাই করে নির্ধারণ করে আপনার ক্রেডিট স্কোর এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা। এরপর সিদ্ধান্ত নেয় কার্ড দেওয়া হবে কিনা এবং তার লিমিট কত হবে।
ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আপনি মূলত ব্যাংকের টাকা খরচ করছেন, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে হয়। সময়মতো পরিশোধ না করলে দিতে হয় অতিরিক্ত সুদ, যা অনেক সময় হয়ে পড়ে দুঃস্বপ্নের মতো।
তাই কার্ড পাওয়ার পর প্রথমেই পিন নম্বর সেট করে নিতে হবে এবং বিল পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ মাথায় রাখতে হবে।
বেশিরভাগ ব্যাংকে বার্ষিক ফি ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা, তবে নির্দিষ্ট লেনদেন করলে এই ফি মওকুফ হয়।
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের সূচনা ১৯৯৭ সালে, এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকের (বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) মাধ্যমে। এরপর ন্যাশনাল ব্যাংক ও ভনিক বাংলাদেশ (বর্তমান লংকাবাংলা) এই সেবা চালু করে।
বর্তমানে প্রায় ৪০টি ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের কার্ড সরবরাহ করছে। অধিকাংশই ভিসা বা মাস্টারকার্ড, তবে কিছু ব্যাংক বিশেষ ব্র্যান্ডের কার্ডও দেয়:
সঠিক ব্যবহার ও সময়মতো বিল পরিশোধ করলে, ক্রেডিট কার্ড হতে পারে আপনার আর্থিক মুক্তির হাতিয়ার। কিন্তু অবহেলা করলে, তা হয়ে উঠতে পারে কষ্টের ঋণের ফাঁদ।